
আসাদ ছোটবেলা থেকেই কৌতূহলী আর স্বপ্নবাজ। নতুন কিছু জানার, শেখার প্রতি তার দারুণ আগ্রহ। একদিন সে এক অজানা গ্রাম খুঁজতে পথে বেরিয়ে পড়ে। প্রথমে পথ সহজ মনে হলেও একটু পর সে গভীর বনের মধ্যে ঢুকে পড়ে। বিশাল গাছ, ঝলমলে পাতার আলো, আর বাতাসে ভাসমান অদ্ভুত সুর—সবকিছু যেন তাকে টেনে নিয়ে চলছিল এক রহস্যময় জগতে। হঠাৎ সে দেখে, এক জ্বলজ্বলে আলো তার সামনে জ্বলমল করছে।

আলোটি যেন তার সাথে কথা বলছে—”তোমার গন্তব্য এখানেই শেষ নয়, সামনে অন্ধকার থাকতে পারে, তবে চাইলে আমার আলো নিতে পারো। তবে তার আগে এই বনের গাছ-ফুলগুলোকে একটু পানি দাও।” আসাদ আনন্দ নিয়ে সে কাজ করল, কিন্তু হঠাৎই বৃষ্টি শুরু হলো। প্রকৃতির এই নতুন শব্দে সে একটু ভয় পেল, আর ঠিক তখনই তার ঘুম ভেঙে যায়।
বাস্তবের পথে
স্বপ্নের সেই রহস্য উদ্ঘাটন করতে এবার সে বাস্তবের পথে পা বাড়ায়। একা একা শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে দেখে বিশাল দালান, বিলাসবহুল বাড়ি, মানুষের ব্যস্ত জীবন। কিন্তু সে হারিয়ে যায় না, কারণ তার মন জানে, তাকে এখনো অনেক কিছু শিখতে হবে। ঠিক তখনই তার বড় ভাই তাকে বলে, “পড়াশোনা যা হয়েছে, অনেক হয়েছে। এখন বিদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা করছি, প্রস্তুত থাকো।”
কিন্তু আসাদ জানত, তার স্বপ্ন ভিন্ন। সে সোজা জানিয়ে দিল, “আমি বিদেশ যাব না। আমি আমার গন্তব্য খুঁজব।” ভাই রেগে বলল, “কোথা থেকে টাকা পাবা?” এই কথা শুনে সে কিছুটা চিন্তিত হলেও ভয় পায়নি।

বন্ধুর ভালোবাসায় আসাদ অবাক
পরের দিন সে ঢাকায় চলে এল, সাথে সামান্য কিছু টাকা। একেবারে নতুন এক শহর, কাউকে চেনে না। বন্ধুদের মধ্যে একজন যখন শুনল যে আসাদ শহরে এসেছে, সে কিছু না বলেই মোবাইলে টাকা পাঠিয়ে দিল। বন্ধুর এই সহযোগিতায় আসাদের চোখে পানি চলে এল। কিন্তু ঢাকার বাসা ভাড়ার পরিমাণ শুনে সে হতবাক! গ্রামের ছেলে এত টাকা খরচ করে কীভাবে থাকবে? কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে সে চিন্তা করল—তার সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস আছে, তিনিই রিযিকদাতা।
তারপর হঠাৎ বড় ভাইয়ের ফোন এলো। রাগ ভেঙে গিয়ে তিনিও কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলেন। এবার যেন আসাদ একটু স্বস্তি পেল। এই শহর, এই নতুন জীবন, এই সংগ্রাম—সবই তার যাপিত জীবনের অংশ। তবে সে জানে, এ শুধু শুরু। তাকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক কিছু শিখতে হবে, এবং যেভাবেই হোক, তার স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে।

আরো চলবে,,,,,,,,,,







